সিসিক ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্মানিত সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দ, সহকর্মী কাউন্সিলর এবং কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম।

হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহপরান (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সমৃদ্ধ অঞ্চল এই সিলেট অনেক জ্ঞানীগুণীর জন্মস্থান। ঐতিহ্যমন্ডিত এই সিলেট সিটির নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বিগত কয়েক বছর যাবত বাজেট ঘোষণার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু এবারের বাজেট ঘোষণার সময় এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। করোনা মহামারি আমাদের সিলেট-বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বকে ওলট পালট করে দিয়েছে।

এই মহামারি আমাদের অর্থনীতিকে যে ধাক্কা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কিন্তু এই মহামারি আমাদের দেশের যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেই শূন্যতা অপূরণীয়। এই মহামারি অনেক পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে, বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত এসব পরিবারের কাছে ২০২০ সাল যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো আবির্ভূত হয়েছে। মূর্তিমান আতংকরূপে এই করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে আমাদের সিলেটেও, অকালে কেড়ে নিয়েছে আমাদের অনেক প্রিয়জনকে।

সেই কারণে বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই বলতে চাই, প্রতিবছরের রীতি অনুসরণ করেই এবার কেবলমাত্র বাজেট ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা করা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে এবারের বাজেট ঘোষণার এই ক্ষণটি আমাদের কাছে বিষাদময়। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়েই আমরা বাজেট বক্তৃতার প্রথমেই পুরো বিশ্বে করোনা মহামারিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছি।

এই করোনা মহামারি সিলেটের যেসব প্রিয়জনকে কেড়ে নিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একাধিকবারের নির্বাচিত মেয়র, অধুনালুপ্ত সিলেট পৌরসভার একাধিকবারের কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান, সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের আকস্মিক মৃত্যু পুরো সিলেটবাসীকে শোকে মুহ্যমান করেছে। আমরা তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন সেই দোয়া করছি।

সিলেটের আরেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম এ হকের আকস্মিক মৃত্যুও সিলেটবাসীকে শোকাহত করেছে। আমরা তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন সেই দোয়া করছি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী দেশের প্রথম চিকিৎসক, ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঈন উদ্দিনসহ যেসব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পেশাজীবী ও নাম না জানা ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের জন্য আমরা গভীর শোকাহত। আমরা তাঁদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এখনও যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। একইসাথে এই করোনাকালে যেসব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃংখলা বাহিনী, সংস্কৃতিকর্মী, ব্যাংকার, বিভিন্ন পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ যেসব চ্যারিটি সংস্থা মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন সেইসব মহানুভব ব্যক্তিদের বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ

এই নগরীর আমাদের সুখ দুঃখের সঙ্গী অনেকেই ছিলেন যারা আজ নেই, কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন, কেউ অন্য কোন রোগে কিংবা দুর্ঘটনায় বা বার্ধক্যজনিত কারণে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, সেইসব বিশিষ্টজনের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

প্রয়াত সকলের নাম এই স্বল্পসময়ে উল্লেখ করা যাবে না, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। বিগত বছর প্রয়াত নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন জাতীয় অধ্যাপক, প্রকৌশলী, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী, ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক পুরঞ্জয় চক্রবর্ত্তী বাবলা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ গোপাল শংকর, ডা. মীর মাহবুব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের ভাই অধ্যাপক আব্দুল হান্নান সেলিম, নার্স রুহুল আমিন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুর নুর, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর পিতা টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন খোকা, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন আহমদ ও তাঁর সহধর্মিনী ফরিদা বেগম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর পিতা সৌদি আরবের কিং ফাহাদ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মজিবুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী আবু হাসান আব্দুল্লাহ, বিশিষ্ট আইনজীবী মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী নাজিম উদ্দিন, বিশিষ্ট আইনজীবী ফারুক আহমদ, বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল মুছব্বির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজিবুল হক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আমজাদ হোসেনের মাতা সৈয়দা সিরাজুন নেছা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বড় ভাই সঞ্জয় সিংহ মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নীলকণ্ঠ রায়, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক বিমলেন্দু দে নান্টু, মহালয় ও উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি নিরঞ্জন চন্দ্র এর মাতা জ্যোতি চন্দ্র, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের বড় বোন বেগম আফিয়া হোসেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর কামাল উদ্দিন আহমদ, সিলেটের প্রখ্যাত আলেম নগরীর রেলগেইট জামে মসজিদের প্রধান খতিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান ভাদেশ্বরী, ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা গুলজার আহমদ ও তার সহধর্মিনী সৈয়দ জেবুন্নেছা খাতুন, এইডেড স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক ও সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য খালিসুর রহমান, এমসি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ধীরেশ চন্দ্র সরকার, দেশের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, সিলেটের প্রবীন চিকিৎসক নগরীর মজুমদারী নিবাসী ডাঃ আব্দুস শহীদ খান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, ধোপাদিঘীরপার নিবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ আলতাফুর রহমানের সহধর্মিনী আনোয়ারা খাতুন, সাংবাদিক আলাউদ্দিন হেলাল, রোটারী ক্লাব অব সিলেট সাউথ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী বারীন্দ্র কুমার কর, লামাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিক উদ্দিন, সিলেট স্টেশন ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট শওকত আলী (আশিক), দি সেন্ট্রাল ফার্মেসির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিমলেন্দু কুমার দে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আছাব আলী, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রুমানা ইসলাম, বিটিভির সাবেক প্রযোজক সিলেটের কৃতি সন্তান আহসান হাবিব, সাংবাদিক তাজ উদ্দিনের মাতা খয়রুন নেছা, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যাপক ফজলুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বজলুল হক দারা, আবু তুরাব জামে মসজিদের সাবেক সেক্রেটারী নুর উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ শাহাদাত হোসেন মজুমদার, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য সুব্রত দাসের মাতা বেগম বীনা রাণী দাস, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল করিম খান, সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীর পিতা দেলওয়ার হোসেন সিদ্দিকী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি চালক মোঃ রমজান আলী, পরিচ্ছন্ন শাখার সুপারভাইজার রাজা মিয়া, কর আদায়কারী মঞ্জুর আহমদের পিতা মোঃ মাসুক মিয়া, শ্রমিক বাদশাহ মিয়া, কম্পিউটার অপারেটর মোঃ নজরুল ইসলামের পিতা ক্বারী মোঃ তোয়াব উল্যাহ, সহকারী কর কর্মকর্তা সৈয়দ মিজান, স্বাস্থ্য শাখার কর্মকর্তা সুহেল আহমদ, পানি শাখার কর্মকর্তা বাবলা দাশ।

সমাগত সাংবাদিকবৃন্দ,

আপনারা প্রতিবারের মতো এবারও মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি আপনাদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। কারণ কর্পোরেশনের কার্যক্রম গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে আপনারা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন। একই সঙ্গে নাগরিকবৃন্দকেও অবহিত করছেন।

পূর্বেই উল্লেখ করেছি, করোনা মহামারী পুরো বিশ্বকেই স্থবির করে দিয়েছিল। এই স্থবিরতার রেশ এখনো চলমান আছে। এই ভয়াল মহামারী সিলেটের জনজীবনকে যেমন বিপর্যস্ত করেছে ঠিক একইভাবে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্থ করেছে। তবে পরিস্থিতি যত স্বাভাবিক হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কাজও ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, যা নগরবাসী হিসেবে আপনারা প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছেন। এবারের বাজেট বক্তৃতায় প্রথানুযায়ী সেইসব উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং পরিকল্পনা বিষয়ে আপনাদেরকে অবহিত করব।

সম্মানিত সুধীজন,

আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগর খ্যাত সিলেটকে আধুনিক ও স্মার্ট নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে সকল কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে দেশের সকল সিটির মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের ২৪ টি দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আলোকে উন্নয়ন বাস্তবায়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের সিসিক তৃতীয় স্থান লাভ করে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরেও নগরেরর উন্নয়নে নানামূখি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি আমরা।

এসব অর্জন সিলেটের সম্মানীত নাগরিকদের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে বলেই আমি মনে করি। এই সুযোগে আমি নগরবাসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন অগ্রতিতে আপনাদের সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে বলেই প্রত্যাশা করি।

সুধীজন,

সিলেটের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও পরিকল্পনা বিষয়ের শুরুতেই আমরা সিলেটের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, এবার করোনা মহামারী এসে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের ভগ্নদশা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সুতরাং দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে ঢেলে সাজিয়ে যুগ উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি সম্বন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

পুরো বিশ্বের মতো এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছেও একদম নতুন একটি অভিজ্ঞতারূপে হাজির হয়েছিল করোনা মহামারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন এবং সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট সিটি কর্পোরেশন সীমিত সম্পদ এবং জনবল নিয়েও করোনা মহামারী মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই ২টি জেট স্যাকার গাড়ী ও পানির ট্যাংকি, মটরপাম্পসহ স্প্রেগান সংযুক্তির মাধ্যমে ৪টি পিকআপ ভ্যানের দ্বারা জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। নগরীর কাঁচাবাজারে প্রতিনিয়ত তরলকৃত ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করা হয়েছে। সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দের মাধ্যয়ে ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ন স্থানে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগের জন্য ফিনাইল ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। হতদরিদ্র লোক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, ড্রাইভার, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা ইউনিটের জন্য ১টি গভীর নলকূপ স্থাপন, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য ৪টি বেসিন স্থাপন এবং পরিবহনের জন্য ২টি মাইক্রোবাস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে হেপাফিল্টার স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। আমার আহবানে সাড়া দিয়ে সিলেটবাসীর মঙ্গলের স্বার্থে ঢাকা থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের এই হেপাফিল্টার বিনামূল্যে দান করায় সাবেক সংসদ আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এর মাধ্যমে বিদেশ ফেরত লোকজন ১৪ দিনের হোম কোয়ারাইন্টাইন মেনে চলছেন কীনা তা এবং বাজার মনিটরিংয়ের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে টিম পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার জন্য ড্রাম বেসিন স্থাপন, বস্তি এলাকায় হাত ধোয়া নিশ্চিত করার জন্য ইউএনডিপি এর মাধ্যমে বেসিন স্থাপন, সাবান বিতরণ ও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা মহামারী মোকাবেলায় সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দের সহযোগিতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়াও করোনা মহামারীতে মৃতুবরণকারী সকল লাশ গোসল করানো, দাফন এবং সৎকারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছে। জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে যেসব স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মকর্তা এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

করোনা মহামারী মোকাবেলায় সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্য শাখার পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম এখন চলমান আছে।

সচেতন সাংবাদিকবৃন্দ,

করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষকে সাহায্যের জন্য আমরা একটি খাদ্য ফান্ড গঠন করেছিলাম। এই খাদ্য ফান্ডে দেশ বিদেশের দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদারমনে এগিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের যেসকল স্থান থেকে খাদ্য ফান্ডে অকাতরে দান করেছেন তাদের প্রতি অনি:শেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এক্ষেত্রে সরকার থেকেও আমরা তড়িৎ সহযোগিতা পেয়েছি, ফলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার ১শ ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিতে পেরেছি। করোনা সংকট মোকাবেলায় এই পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে সিটি কর্পোরেশনকে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগদ ৩৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য নগদ আরও ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার ০১ টাকা এবং বেসরকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং জবাবদিহীতার স্বার্থে বিতরণ পর্যায়ে সম্মানিত কাউন্সিলর ছাড়াও ওয়ার্ড সচিব এবং ২৭টি ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসন থেকে ২৭ জন এবং সিটি কর্পোরেশন থেকে ২৭ জন প্রতিনিধি ট্যাগ অফিসার হিসেবে মনিটরিং করেছেন।

সাংবাদিক সুধীজন,

এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বর্ণাঢ্যরূপে আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছিল সিলেট সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে পরবর্তীতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়। আমাদের আয়োজনের মধ্যে ছিল হুমায়ুন রশীদ স্কয়ার, টিলাগড় পয়েন্ট ও নগর ভবনের সামনে ডিজিটাল কাউন্ট ডাউন স্থাপন, পোষ্টার ছাপানো, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলোকসজ্জা। এছাড়াও ১৭ মার্চ হুমায়ুন রশীদ স্কয়ার এবং টিলাগড় পয়েন্টে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানমালারও আয়োজন করা হয়।

সুধীজন,

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আপনারা জানেন ২০১৯ সালে করোনা মহামারী শুরুর আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২শ ২৮ কোটি একনেকে পাশ করা হয়। এজন্য সিটি কর্পোরেশন তথা সিলেটের আপামর জনগনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

একইসাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি, স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, একনেকে পাশ করা হলেও এই প্রকল্পের বরাদ্দসমূহ কবে পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলে যাচ্ছে না। কারণ করোনা মহামারীর কারণে এই প্রকল্পের বরাদ্দকে সরকার নি¤œ অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে রেখেছেন। চলতি বছর যে এই বরাদ্দ আসবে না এটা নিশ্চিত। তাই এসব প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগজনক উপলদ্ধি বিরাজ করলেও আমরা প্রত্যাশা করছি সিলেটের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বরাদ্দ প্রদান করবেন।

পাশাপাশি এখানে আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখতে চাই, ১২শ ২৮ কোটি টাকার মধ্যে ২০ ভাগ অর্থ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদানের শর্তসাপেক্ষে এই প্রকল্প পাশ করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, সিটি কর্পোরেশনের বিগত দিনের রাজস্ব আহরনের খাতের সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করলে এই ২০ ভাগ অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান কতটুকু চ্যালেঞ্জিং হবে, তা মূল্যায়নের ভার আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

প্রিয় সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দ,

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার বলে আসছি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা-এই দুটো বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না। আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছড়া ও খাল প্রশস্তকরণ কার্যক্রমে নিরসলভাবে কাজ করেছি, যার সুফল হিসেবে মহানগরীর প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন। আমার মেয়াদকালে এই পর্যন্ত সিলেট নগরীজুড়ে ২০ কিলোমিটার ছড়া ও খাল উদ্ধার এবং সংরক্ষন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এখানে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। বিগত দুটি বর্ষা মৌসুমে মহানগরীর কিছু এলাকায় যে বন্যা হয়েছে তা জলাবদ্ধতা নয়। আপনারা সবাই জানেন, মহানগরীর ড্রেন ও ছড়ার পানি সুরমা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সেই নদীও ড্রেজিং না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। বিপত্তি ঘটে তখনই যখন উজান থেকে ঢল এসে সুরমা নদীর পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সুরমা নদীতে গিয়ে ছড়া ও ড্রেনের পানি মিশতে পারে না। উল্টো সুরমা নদীর পানি মহানগরীর ছড়া দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করে ফেলে। এই জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য ইন্সিটিটিউট অব ওয়ারটার মডেলিং (আইডব্লুএম) কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে জানিয়েছেন, ছড়ারমুখে স্লুইচ গেইট এবং নিচু এলাকায় পানির পাম্প বসিয়ে ঢলজনিত প্লাবনের আপাত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পরবর্তীতে নদী ড্রেজিং করা হলে পুরো নগরীর প্লাবনজনিত জলাবদ্ধতার শতভাগ সমাধান সম্ভব।

সুধীজন,

পরিবহন ক্ষেত্রে সিলেটের অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে, মহানগরীর সর্ববৃহৎ কদমতলী বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হলেও করোনা মহামারীর কারণে কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বাস্তবতা বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক এই কাজের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, উন্নত বিশ্বের আদলে কদমতলী বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে এই এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। যাত্রীরা পাবেন আধুনিক ও উন্নতমানের সেবা।

আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ট্রাক টার্মিনাল ২০১৯ সালের অক্টোবরে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি উদ্বোধন করেছেন। তবে এই টার্মিনালকে নিয়ে আমাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৮ একর জায়গা থাকলেও আমরা আরও ২০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছি। এখানে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কার্যালয়, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, হেলথ সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, ওয়ার্কশপ, সার্ভিস সেন্টার, পেট্রোল পাম্প ইত্যাদি চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘নগর বাস সার্ভিস’ চালুর ব্যাপারে আশাব্যঞ্জক সাড়া পেলেও রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ কাজ এখনো চলমান আছে বিধায় তা পূর্নাঙ্গভাবে চালু করতে আরও কিছু সময় লাগবে। রাস্তা পারাপারে ঝুঁকি এড়াতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর মুরারীচাঁদ কলেজের (এম. সি কলেজের) সামনে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যাদেশ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে, মেন্দিবাগ পয়েন্টে, হুমায়ুন রশীদ স্কয়ারে এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,

আপনার জানেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনাধীন স্কুলগুলো হচ্ছে আখালিয়ায় অবস্থিত বীরেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, চৌহাট্টায় অবস্থিত ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়, বাগবাড়িতে অবস্থিত বর্ণমালা সিটি একাডেমী এবং চারাদিঘিরপারে অবস্থিত সিটি বেবী কেয়ার একাডেমী। এবার সিলেট নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমরা একটি নতুন স্কুল করার কার্যক্রম গ্রহন করেছি। এই স্কুলের জন্য আমরা জায়গাও ইতোমধ্যে পেয়েছি। যেহেতু এই ওয়ার্ডে কোন প্রাইমারী স্কুল নেই সেজন্য আমরা এই ওয়ার্ডে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। এছাড়াও নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডেও একটি স্কুল করার আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।

শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত ও পাঠদান কার্যক্রমের আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আমরা দুইজন শিক্ষা উপদেষ্টা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সিলেটের একটি স্বনামধন্য মহিলা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সম্বন্বয়ে গঠিত এই শিক্ষা উপদেষ্টা টিমের প্রস্তাবনার আলোকেই সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষাখাতের উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সুধীবৃন্দ,

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নগরবাসীর জন্য সুসংবাদ হচ্ছে, প্রিজম বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এবং সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে ক্লিনিকেল ও মেডিকেল বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিং করার জন্য অটোক্ল্যাপ প্রযুক্তির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি এই প্রযুক্তির উদ্বোধন করেছেন।

তবে দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন স্যানেটারী ল্যান্ডফিল নির্মাণ কাজ করোনা মহামারীর প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্ধ আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্বব্যাংক এই কাজের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করেছেন। ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে তরল বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

ভারতীয় সরকারের অনুদানে নগরীতে চলমান তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়িত দুটি প্রকল্প হচ্ছে চারাদিঘীরপাড়ে বহুতল স্কুল ভবন ও মহানগরীর কাষ্টঘরে সুইপার কলোনীর বহুতল ভবন। তবে করোনা মহামারীর কারণে স্থবিরতার কারণে ধোপাদিঘীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প এখনো সম্পন্ন হয়নি।

যদিও আপনারা অবগত আছেন যে, ইতোমধ্যে ধোপাদিঘী এলাকার একটি বৃহৎ অংশ সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু একটি অংশের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে কারাগার কর্তৃপক্ষের সাথে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি এই জটিলতা দূর হয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করছি ২০২১ সালের জুন মাস নাগাদ ধোপাদিঘীরপাড় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।

সুধীজন,

নগরীর সড়ক প্রশস্তকরণে আমরা নগরবাসীর কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। যদিও করোনা মহামারীর কারণে এসব সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করা যায়নি। মহামারী আসার পূর্ব পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশ বেতারের সম্মুখের সড়ক থেকে সুবিদবাজার পয়েন্ট অভিমুখী সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করেছি। এক্ষেত্রে জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা অভিমুখী সড়কের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব সড়ক প্রশস্তকরণে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যেভাবে স্বত:ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর আমরা জমি দানকারী সম্মানিত নাগরিকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সম্মাননা জানানো হবে।

এছাড়াও টিলাগড় পয়েন্ট থেকে শিবগঞ্জ-মীরাবাজার-নাইওরপুল হয়ে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাতসহ ড্রেন, নাইওরপুল থেকে জেলরোড হয়ে জিন্দাবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ এবং চৌকিদেখী-আম্বরখানা সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রমও প্রায় শেষ হওয়ার পথে। হুমায়ুন রশীদ স্কয়ার থেকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর হয়ে ক্বীনব্রিজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। শাহী ঈদগাহ থেকে কুমারপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ কাজও চলছে। এছাড়াও সিলেট নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

প্রিয় নগরবাসী,

সিলেট নগরীর হকার পুনর্বাসন এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও এসব ফুটপাতে হকাররা বসে যায় যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তবে হকারদের পুনবার্সনের বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এই লক্ষে হকারদের যাতে সত্যিকার অর্থে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয় সেজন্য লালদিঘী মার্কেট আংশিক ভাঙার কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

এই মার্কেটের আধুনিকায়নের জন্য কনসালটেন্টও নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা নকশা তৈরী করছেন। এরপর এখানে কারা কীভাবে ব্যবসা করবেন তার জন্য একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

পৌরবিপনী মার্কেট ভেঙে নতুন ও আধুনিক কমপ্লেক্স গড়ার কাজ মামলা সংক্রান্ত জটিলতার দূর হলে অতিসত্ত্বর শুরু হবে। হাসান মার্কেট নিয়ে পরিকল্পনার আশাপ্রদ অগ্রগতি হয়নি। আলোচিত এই মার্কেটকে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের ব্যাপারে আমরা জোর দিচ্ছি।

প্রিয় নগরবাসী,

হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থান আধুনিকায়ন ও সংস্কারের লক্ষে ৮ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কবরস্থান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, হেলে পড়া গাছ কর্তন ও ছাটাই, রং করে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন প্রকল্পের আওতায় এখানে কবরস্থানে মাটি ভরাট, লাশের গোসলখানা সংস্কার এবং প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরীর জন্য একটি মরচুয়ারি স্থাপনসহ ডিজিটাল সার্ভের ভিত্তিতে এই গোরস্থানকে আধুনিকায়নের করা হচ্ছে। এছাড়া চৌধুরী টিলা, মেন্দিবাগ কবরস্থানসহ নগরীর ছোট বড় কবরস্থানের সংস্কারকাজও করা হবে। চালিবন্দর শশ্মানঘাট, মনিপুরী শশ্মানঘাট, খ্রিষ্টানদের সমাধিস্থান, বৌদ্ধবিহারের আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সুধীজন,

সিলেট মহানগরীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ তার-এর জঞ্জাল সরানো এবং নিরাপদ বিদ্যুতায়নের লক্ষে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল নির্মাণের কাজ এখনো চলমান আছে। এই কাজ বাস্তবায়ন করছে পিডিবি এবং সহযোগী হিসেবে আছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। করোনা মহামারী কারণে এই প্রকল্পের কাজও সম্পন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

প্রিয় নগরবাসী,

পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারি নদীতে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রায় ৬শ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের জন্য বড়শালায় ১৩ একর জায়গা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তোপখানায় অবস্থিত পুরনো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জায়গায় ছোট পরিসরে নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরীর কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে, যা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও পানির বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য একটি ল্যাবও স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট এর আওতায় নগরীতে ইমারজেন্সী অপারেশন সেন্টার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও ৫টি ইমার্জেন্সি বেজ স্টেশন স্থাপন করা হবে আপদকালীন সময়ে নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখার জন্য।

সচেতন সুধীজন,

সিলেট নগরী প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যমন্ডিত হলেও বাস্তবতা হচ্ছে এই নগরীতে নির্মল পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর জন্য একটি উদ্যান নেই, এটা আমাদের খুব পীড়া দেয়। যদিও এবার আমরা প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে নগরবাসী যাতে অন্তত একটু হাঁটতে পারেন সেজন্য গোয়াবাড়িতে একটি ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ চলমান আছে, যা ইতোমধ্যেই প্রকৃতিপ্রেমী নাগরিকদের দারুনভাবে আকৃষ্ট করেছে। যদিও এই প্রকল্পের কাজ এখনও বাকী আছে।

পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে আমরা আশাবাদী শুধু সিলেট কিংবা বাংলাদেশের নাগরিক নন, দেশের বাইরের মানুষকেও এটি আকৃষ্ট করবে। গোয়াবাড়ি ছাড়াও সিলেট নগরীর উপশহর ও শাহী ঈদগাহে নান্দনিকরূপে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এছাড়াও এমসি কলেজের মাঠের চারপাশে এবং সাগরদিঘীরপাড়ের প্রবাহমান ছড়াকে কেন্দ্র করে নান্দনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুধীবৃন্দ,

সিলেটে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। প্রাথমিকভাবে এই কাজ যারা বাস্তবায়ন করেছে তারা আরও এক বছর রক্ষণাবেক্ষন করবেন। পরবর্তীতে সেগুলো সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে সমঝে দেওয়া হবে এই মর্মে তাদের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

আপনারা জানেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি ওয়ার্ডে স্থাপনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট মহানগরীর অবশিষ্ট ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের লক্ষ্যে দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া গ্রহন করেছি।

সুধীজন,

বস্তিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে নগর মাতৃসদন ও ডায়গনস্টিক সেন্টার স্থাপনের কথা আমরা বিগত বাজেটে উল্লেখ করেছিলাম। এরই অংশ হিসেবে নগরীর কুমারপাড়ায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের আরও দুটি ফ্লোরের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সেই কাজ পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আমরা আশাবাদী দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এটি আমরা যথাশীঘ্র চালু করব।

সচেতন সুধীজন,

সিলেট সিটি করপোরেশন অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী করে গত ফেব্রুয়ারিতে সিলেটের ৭ জন ভাষা সংগ্রামীকে “ভাষাসৈনিক সম্মাননা-২০২০” প্রদান করে। এ অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া মরনোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়- ভাষাসৈনিক আব্দুস সামাদ আজাদ, ভাষাসৈনিক মনির উদ্দিন আহমদ এডভোকেট, ভাষাসৈনিক কমরেড আসাদ্দর আলী, ভাষাসৈনিক এম. সাইফুর রহমান, ভাষাসৈনিক ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ভাষাসৈনিক ডাক্তার হারিস উদ্দিনকে। সিলেট সিটি করপোরেশন এই অঞ্চলের সকল ভাষাসৈনিককে ধারাবাহিকভাবে সম্মাননা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করেই চলতি বছরের বাজেট ঘোষণা করব। আপনারা জানেন, প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি বারবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ করার তাগিদ দিয়ে আসছি। ২০১৪ সালে আয়তন বর্ধিত করার প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। অবশেষে কিছুটা বিলম্ব হলেও সিসিকের এলাকা সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই লক্ষ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক জনাব কাজী এম এমদাদুল ইসলাম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, ২৬.৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিসিক প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হবে। যদিও প্রস্তাবিত এলাকার বাইরের একাধিক ইউনিয়নের অধিবাসী সিসিকের আওতাভুক্ত হওয়ার দাবি উত্থাপন করছেন। এক্ষেত্রে বাস্তবতা হচ্ছে, এই মহানগরী আরও বর্ধিত হলে রাজস্ব আয়ও আরও বৃদ্ধি পাবে, উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে। শহরতলীর মানুষের নাগরিক সেবাও উন্নততর হবে। সেক্ষেত্রে যারা সিসিকের অন্তর্ভুক্ত হতে চান তাদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করবেন বলেই আমার প্রত্যাশা।

সিটি কর্পোরেশন সম্প্রসারিত হওয়ার পর কিছু পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই যা নগরবাসীর জন্য খুবই জরুরী। সম্প্রসারিত সিটি কর্পোরেশনের চারটি অংশে আমরা জমি অধিগ্রহণ করে বৃক্ষশোভিত উদ্যান করতে চাই যেখানে নগরবাসী নির্মল পরিবেশে হাঁটাচলা করতে পারেন। একই সাথে একাধিক খেলার মাঠ করার পরিকল্পনাও আমাদের আছে। পাশাপাশি নগরীর চারটি অংশে চারটি নির্দিষ্ট পশুর হাট করার পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। সিটি কর্পোরেশন এলাকা বর্ধিত হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম আমাদের জন্য সহজতর হবে।

সুধীবৃন্দ,

কথা অনেক হয়ে গেছে। এবার আমি আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের সহযোগিতা কামনা করে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করছি।

সিলেট নগরীর সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে অধিকতর সুযোগ সুবিধা ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবার সর্বমোট ৭৪৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত গুলো হলো হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ২০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্থান্তরের উপর কর ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণের উপর কর ২ কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোট ২৫ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফিস বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা, ঠিকাদারী তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফিস বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা, বাস টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৮০ লক্ষ টাকা, ট্রাক টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ও দোকান ভাড়া বাবদ ১ কোটি টাকা, রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ১০ লক্ষ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, রোড রোলার, ভ্যাকুয়াম টেংক, ভীম লিফটার ও ক্রেন ভাড়া বাবদ ৮৫ লক্ষ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ বছরে ৪ কোটি টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনঃসংযোগ ফিস বাবদ ১ কোটি টাকা, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আয় ধরা হয়েছে। সম্মানীত নগরবাসী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ করলে বাজেট বছরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব খাতে ৮২ কোটি ২২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

সরকারি উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ বাবদ ১৫ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প মঞ্জুরী খাতে ১০ কোটি টাকা, সরকারি অন্যান্য উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী বাবদ ২৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১০৮ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ৫ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য আধুনিক যান যন্ত্রপাতি ক্রয় ৪৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৮০ কোটি টাকা, নগর ভবন উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণ প্রকল্পে ২০কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারন প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশন এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ৩০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের প্লাষ্টিক রিসাইক্লিন প্লান্ট স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের নগর মাতৃসদন ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার স্থাপন খাতে ১০ কোটি টাকা, লালমাটিয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়ন খাতে ৩০ কোটি টাকা, তোপখানা পানি শোধনাগার এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্পের জন্য ৫ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানেটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্পে ৩ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় এমজিএসপির সহায়তায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৩ কোটি টাকা, উৎপাদন নলকুপ স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন খাতে ৩ কোটি টাকা, সুরমা নদীর তীর ঘেষে সার্কিট হাউসের সম্মুখ হতে হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক পর্যন্ত আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল এবং ওয়াকওয়েসহ রাস্তা নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ষ্টাফ কোয়াটার নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ২ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীতে যানজট নিরসনে ৪টি পার্কিং ব্যবস্থা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি গরুর হাট নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি জবাইখানা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি খেলার মাঠ নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, ইউনিসেফের অর্থায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক পরিসেবা কাঠামো শক্তিশালীকরন প্রকল্প বাবদ ৮০ লক্ষ টাকা, নগরীর বস্তি সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ১ কোটি টাকা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প লালদিঘীতে মার্কেট নির্মাণ, ধোপাদিঘীতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মার্কেট নির্মাণ ও সিটি কর্পোরেশনের আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ প্রকল্প খাতসহ মোট ৯৭ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব খাতে মোট ৭৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তন্মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন খাতে ৩০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা, শিক্ষা ব্যয় খাতে ৬ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা, সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান এবং সিটি এলাকাধীন বিভিন্ন মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনগণকে আর্থিক সহায়তা খাতে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়ঃপ্রণালী ব্যয় খাতে ১৩ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ খাতে ২০ লক্ষ টাকা, বৃক্ষ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা, মোকদ্দমা ফি ও পরিচালনা ব্যয় খাতে ৫০ লক্ষ টাকা, জাতীয় দিবস উদযাপন খাতে ব্যয় ৩০ লক্ষ টাকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন খাতে ব্যয় ১ কোটি টাকা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্ণামেন্ট ব্যয় বরাদ্দ ১ কোটি টাকা, মেয়র কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট ব্যয় বরাদ্দ ২০ লক্ষ টাকা, রিলিফ/ জরুরী ত্রাণ ব্যয় বরাদ্দ ২ কোটি টাকা, আকষ্মিক দুর্যোগ/বিপর্যয়/করোনা খাতে ব্যয় বরাদ্দ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, রাস্তা আলোকিতকরন ব্যয় বরাদ্দ ৩ কোটি টাকা, কার্যালয়/ভবন ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ১ কোটি টাকা, নিরাপত্তা/ সিকিউরিটি পুলিশিং ব্যয় খাতে ৫০ লক্ষ টাকা, অনান্য ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ এবং পানি সরবরাহ শাখার সংস্থাপন ব্যয় সহ পানির লাইনের সংযোগ ব্যয়, পাম্প হাউজ, মেশিন, পাইপ লাইন মেরামত ও সংস্কারকাজ এবং বিদ্যুত বিল পরিশোধসহ মোট ১২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব খাত অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাবদ মোট ২৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা মেরামত/সংস্কার, ব্রীজ/কালভার্ড নির্মাণ, ব্রীজ/কালভার্ড মেরামত/ সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ/ মেরামত, সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি ও সম্পদ ক্রয়, সিটি কর্পোরেশনের ভবন নির্মাণ/মেরামত, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ষ্টাফ কোয়াটার নির্মাণ/মেরামত ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব লিয়াজো অফিস/ফ্ল্যাট ক্রয়, কসাই খানা নির্মাণ/ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্টান, মাজার, কবর স্থান/শশ্মান ঘাট/ঈদগাহ উন্নয়ন, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষায় গ্যারেজ নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষনে ওয়ার্কসপ নির্মাণ, হাট বাজার উন্নয়ন, বাস টার্মিণাল সংস্কার ও উন্নয়ন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঠাগার নির্মাণ, নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নারীদের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ, এমজিএসপি প্রকল্পের রক্ষনাবেক্ষন কাজের নিজস্ব অর্থ ব্যয়, সিটি কর্পোরেশনের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় সহ ইত্যাদি ব্যয় উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া সরকারি উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ বাবদ ১৫ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প মঞ্জুরী খাতে ১০ কোটি টাকা, সরকারি অন্যান্য মঞ্জুরী বাবদ ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১০৮ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ৫ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য আধুনিক যান যন্ত্রপাতি ক্রয় ৪৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৮০ কোটি টাকা, নগর ভবন উদ্ধৃমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণ প্রকল্পে ২০কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারন প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশন এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ৩০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের প্লাষ্টিক রিসাইক্লিন প্লান্ট স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের নগর মাতৃসদন ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার স্থাপন খাতে ১০ কোটি টাকা, লালমাটিয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়ন খাতে ৩০ কোটি টাকা, তোপখানা পানি শোধনাগার এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্পের জন্য ৫ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানেটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্পে ৩ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় এমজিএসপির সহায়তায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৩ কোটি টাকা, উৎপাদন নলকুপ স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন খাতে ৩ কোটি টাকা, সুরমা নদীর তীর ঘেষে সার্কিট হাউসের সম্মুখ হতে হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন সড়ক পর্যন্ত আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল এবং ওয়াকওয়েসহ রাস্তা নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ১৮ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ষ্টাফ কোয়াটার নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ২ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীতে যানজট নিরসনে ৪টি পার্কিং ব্যবস্থা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি গরুর হাট নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি জবাইখানা নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪টি খেলার মাঠ নির্মাণ খাতে ৪ কোটি টাকা, ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, ইউনিসেফের অর্থায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক পরিসেবা কাঠামো শক্তিশালীকরন প্রকল্প বাবদ ৮০ লক্ষ টাকা, নগরীর বস্তি সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ১ কোটি টাকা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প লালদিঘীতে মার্কেট নির্মাণ, ধোপাদিঘীতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মার্কেট নির্মাণ ও সিটি কর্পোরেশনের আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ প্রকল্প খাতে ব্যয় ৯৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেট তৈরীতে এবার সহযোগিতা করেছেন অর্থও সংস্থাপন কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জনাব তাকবির ইসলাম পিন্টু ও সদস্য কাউন্সিলর জনাব রাশেদ আহমদ, কাউন্সিলর বেগম নাজনীন আকতার কনা, কাউন্সিলর জনাব এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জল, কাউন্সিলর জনাব সোহেল আহমদ রিপন এবং সদস্য সচিব প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জনাব আ.ন.ম. মনছুফ। তারা যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন সেজন্য তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সাংবাদিক ও সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ,

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠে এবারের বাজেট বাস্তবায়ন অনেক কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। এই বাজেট বাস্তবায়নে বিগত দিনের মতো সরকার এবং দলমত নির্বিশেষে সিলেটের সর্বস্তরের জনগনের সহযোগিতা পাব-এ বিশ্বাস আমার আছে।

আপনারা জানেন, সিলেটের কৃতিসন্তান, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, মরহুম এম সাইফুর রহমানের সাথে র্দীঘদিন একনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এম সাইফুর রহমান উন্নয়নের প্রশ্নে ছিলেন্ আপসহীন, ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে। তাঁর সেই আদর্শকে ধারণ করে রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কাজে আমি মনোনিবেশ করেছি এবং আমার সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

আমার আরেকটি সৌভাগ্য প্রথম মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই সিলেট মহানগরীর উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। তাঁর উদারতা, কর্মনিষ্ঠা, সততা আমাদের জন্য উদাহরণস্বরুপ। সিলেটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষ উদযাপনে তিনি যেভাবে উদ্যমী ভূমিকা নিয়ে সকল আয়োজনকে স্বার্থক করেছেন সেজন্য তাঁকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সিলেটের উন্নয়নের জন্য একনিষ্ঠভাবে কর্মরত সিলেটের আরেক কৃতিসন্তান, সিলেটপ্রেমী ব্যক্তিত্ব পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি মহোদয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সিটি কর্পোরেশন এলাকার যেকোন সমস্যা সমাধানে কিংবা উন্নয়ন বিষয়ে তাঁর আন্তরিকতা আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। সম্প্রতি ‘আগামীর সিলেট’ বিষয়ে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সিলেটের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সিলেটের আরেক সুসন্তান, গুনী ব্যক্তিত্ব পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম শুভাকাংখী হিসেবে সর্বদা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেজন্য তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কেবলমাত্র পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে নন, একজন সিলেট দরদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর ভূমিকা মহানগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও বেগবান করছে।

এছাড়াও যাদের পরামর্শ আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে সিলেটের সেই ত্রয়ী মন্ত্রী বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সিলেটের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিলেটের সুধীজনসহ সর্বস্তরের জনগণ সিলেটের উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ আছেন-সেই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। সিলেটকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলতে আমাদের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।

সুধীজন,

আজকের এই মহানগরী একদিনে গড়ে উঠেনি। আমরা প্রত্যাশার শীর্ষে যেতে পারিনি সত্য, এরপরও আমাদের পূর্বসুরীরা যেটুকু করেছেন তার ভিত্তিতেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। উন্নয়নে নগরবাসী এবং সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। আমি তাঁদের অবদানকেও স্মরণ করছি। একই সাথে আমি সিলেটের বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ সহ এই মহানগরীর উন্নয়ন ও কর্মকান্ড বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সহযোগী প্রশাসন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

প্রতি বছরের মতো সবার সামনে এবারও বাজেট পেশ করার সুযোগ পাওয়ায় আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। করোনা মহামারীর সময়েও আপনারা মূল্যবান সময় দেওয়ায় আবারও আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সবশেষে আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের সকল সম্মানিত নগরবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সবার মমতা ও দোয়া-ই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই দোয়া ও মমতা নিয়েই আমি আমৃত্যু জনগনের সেবা করে যেতে চাই।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাখুন এবং করোনা মহামারি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুক এই পৃথিবী।

(আরিফুল হক চৌধুরী)

মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।