সিলেটে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন



সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের গোটাটিকর এলাকায় স্থাপিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড এর পাশে স্থাপিত মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার সকাল ৯ টায় উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন ও মোনাজাতের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্থাপিত মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, ‘মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ আমার বড় ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে’। তিনি বলেন, আমার বড় ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সিটি মেয়র আরিফুল হকে চৌধুরী এই দুইজন যদি না হতেন এটা স্থাপন করা সম্ভব হতো না। এই জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

অপর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টের পর ১৩৯টি এনজিও ঐ এলাকায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিলো। এদের মধ্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকায় তালিকা করে ৪১টি এনজিওকে সে এলাকায় সব ধরনের কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখনো বিভিন্ন এনজিও একই কাজ করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এদের কার্যক্রমে নজরদারী হচ্ছে। তথ্য প্রমান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি প্রথম বার যখন নির্বাচিত হই তখন দেখলাম, সিলেট মহানগরীর সলিট ওয়েস্ট এবং মেডিকেল ওয়েস্ট একই জায়গায় ফেলা হচ্ছে। যার ফলে পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। বিষয়টি নগরবাসির স্বাস্থ্য ঝুকির অন্যতম কারন। ফলে আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সকল মেডিকেল বর্জ্য একত্রিত করে বিজ্ঞান সম্মতভাবে ডাম্পিং ও জিবানুমুক্ত করণের উদ্দ্যোগ নেই। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে আমার নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতির আরেকটি বাস্তবায়ন হলো।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই আলোকেই আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশন নিয়মিতভাবেই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আইনানোগভাবে ক্লিনিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজেমেন্টর মূল দায়িত্ব ক্লিনিক মালিকদের উপরে বর্তায়। বাস্তবে ক্লিনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দায়িত্ব পালন করেন না। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন নগরবাসির স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিলেট নগরীর সব কটি ক্লিনিক-হাসপাতালের বর্জ্য সংগ্রহ করে বিজ্ঞান সম্মতভাবে পরিশোধনের উদ্দ্যোগ নিয়েছে।

সিসিকের জনসংযোগ শাখা জানায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে স্থাপিত মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে ‘প্রিজম বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, আজম খান, এ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর, রুহুল আলম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনসুফ সহ সিসিকের অন্যান্য কর্মকর্তারা।