সিলেটের মেয়রের কাজের প্রশংসা করলেন এলজিআরডিমন্ত্রী



সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উন্নয়নকাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সিলেটের মেয়র ভালো কাজ করছেন। তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে নগরের উন্নয়ন করছেন। সেখানে আইন মেনে কাজ হচ্ছে। যথাযথভাবে কাজের মান ঠিক রাখা হচ্ছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে চার কোটি টাকার জায়গা নগরের উন্নয়নের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য ১২০০ কোটি (১ হাজার ২০০ কোটি) টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি তো বিএনপির মেয়র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে আওয়ামী লীগ, বিএনপি , জাতীয় পার্টি দেখে কাজ করেন না। এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী সিলেটের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি বরাদ্দ দিয়েছেন।’

আজ শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

নগরসেবায় পথ দেখিয়েই যাচ্ছে সিলেট। সড়কে তারহীন বৈদ্যুতিক বাতির পর এবার তারা চালু করেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন কৌশল। গৃহস্থালি বর্জ্যের পচনশীল ও প্লাস্টিক-ধাতব ইত্যাদিকে গৃহপর্যায়ে আলাদা করা এবং পরে আলাদা আলাদাভাবে দুটিকে সংগ্রহ করার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এই নগরীতে। প্রথমে নগরের একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে তা চালু করা হয়েছে। সফল হলে সারা নগরীতে এর প্রয়োগ হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া এই পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে বাড়ি বাড়ি লাল ও নীল দুই রঙের বালতি এবং বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। এখন থেকে পচনশীল দ্রব্য, যেমন ভাঙা বাসন ও লোহার সামগ্রী রাখা হবে লাল বালতিতে, আর নীল বালতিতে থাকবে পচনশীল ময়লা। প্লাস্টিকের ব্যাগে জমা থাকবে প্লাস্টিক বর্জ্য। খুবই সরল ব্যবস্থা। অধিবাসীরা এসব আলাদা আলাদা পাত্রে জমা করবেন—পচনশীল আবর্জনা প্রতিদিন এবং অন্যগুলো সপ্তাহে এক দিন করে সংগ্রহ করা হবে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত হচ্ছেন। আসলেই যদি এটা সমগ্র সিলেট নগরে করা যায়, তাহলে অপচনশীল ও প্লাস্টিক বর্জ্য সিলেটের পরিবেশকে আগের মতো আর নষ্ট করতে পারবে না। নদী, মাটি, জলাশয় ও বাতাস—এসবের বিষাক্ত প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে। এর প্রভাব পড়বে ওই নগরীর অধিবাসীদের স্বাস্থ্যের ওপর, জীবনযাত্রার ওপর।

সরকার ও নগর প্রশাসন যখন আন্তরিকভাবে ভালো কোনো কাজ করে, তখন নাগরিকেরা তাতে সাড়া দেন এবং নিজেদেরও বদলে নেন। আবার যখন প্রশাসন অবহেলা করে বা কথা ও কাজের মধ্যে অমিল ঘটায়, তখন নাগরিকেরা আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বহীন হতে থাকেন। সিলেটে একের পর এক ইতিবাচক নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ অবশ্যই সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে পরিবেশবান্ধব ও শৃঙ্খলাময় করবে আশা করি। উন্নত নাগরিক আচরণ-অভ্যাস পেতে হলে সেটা যে ওপর থেকেই করতে হবে, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র সেটা করে দেখাচ্ছেন। অতি সম্প্রতি সেখানে সড়কবাতির বিদ্যুৎ-সংযোগ মাটির তলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন অনেক কমেছে, তেমনি বেড়েছে নগরের সৌন্দর্য।

সিলেট তাই এক উদাহরণ। দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নগরী রাজশাহীও পথ দেখাচ্ছে। নিরন্তর চেষ্টায় রাজশাহী নগর এখন সবচেয়ে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরী—শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও খ্যাত হয়েছে রাজশাহীর অর্জন। এসব থেকেই প্রশ্ন জাগে, নগর প্রশাসকদের আন্তরিকতা ও সততা থাকলে কী না হয়। রাজধানী ঢাকার দুই মেয়র যখন পরিবেশদূষণ, জলাবদ্ধতা, যানজট কোনো কিছুরই সমাধান করতে পারেননি, বরং আরও অবনতিই ঘটিয়েছে, তখন সিলেট ও রাজশাহী হয়ে উঠেছে পথপ্রদর্শক।