নগরীতে ‘বৈকালিক সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন



টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল উল্লেখ করে সিেিলট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেছেন, শিশুদের মারাত্মক ১০টি রোগ থেকে রক্ষার জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে অবিস্মরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বৃহস্পতিবার (১০জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাদারপাড় এলাকায় ‘বৈকালিক সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সিসিকের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেলে আহমদ রিপনের সভাপতিত্বে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ধ্রুব পুরকায়স্থ’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডাঃ হিমাংশু লাল রায়, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।

সিসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবার শুরু করা হয়েছে (ইভিনিং ইপিআই) কর্মসূচি। এই প্রথম দেশে ইভিনিং ইপিআই কর্মসূচি চালু করা হলো। বস্তি এলাকার শিশুদের কথা বিবেচনা করেই সিসিক এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।
ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম আরো জানান, সিসিক এলাকায় আগে থেকেই মর্নিং ইপিআই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। কিন্তু বস্তি এলাকার মায়েরা কর্মজীবী হওয়াতে দিনেরবেলা বাইরে থাকেন। ফলে অনেক শিশু টিকাদান থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। তাই কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে যাচাই-বাছাই করে শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো সান্ধ্যকালীন ইপিআই চালু করা হলো। নগরের ১৪টি বস্তিতে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ২৮ দিন পর পর আগামী এক বছর চলবে।
সিসিক সূত্র জানায়, ছাতা দিয়ে বস্তি এলাকায় প্রতিদিন চারজন কর্মী এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইপিআই লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১ হাজার ৭৪২ শিশু।
অনুষ্ঠানে ডাঃ আনিসুর রহমান, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ডাঃ মোঃ সালেকুজ্জামান সেলিম, সিটি কাউন্সিলর বেগম রেবেকা আক্তার লাকী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিলেন্স এন্ড ইমুনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিশেল পাল সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, ইউনিসেফ সিলেট শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন। এ কর্মসূচির আওতায় ৩০ জন শিশুকে ইপিআই টিকা প্রদান করা হয় এবং ৬৭ জন শিশুর পুষ্টির অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।