সিলেট সিটির উন্নয়নকাজে ২৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা দিচ্ছে ভারত



সিলেট সিটি কর্পোরেশন Construction of Infrastructure for Education and Better Environment of Sylhet City Corporation

বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের মধ্যে “Construction of Infrastructure for Education and Better Environment of Sylhet City Corporation” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২৪ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার একটি অনুদান চুক্তি সিলেটে স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো: আমিনুল হক, ভারত সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব এতে স্বাক্ষর করেন। সিলেট সার্কিট হাউসে বেলা ১২ টায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট সিটির উন্নয়নকাজে ২৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা দিচ্ছে ভারত

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন, ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। ভারত সরকার কর্তৃক প্রতিশ্রুত এ অনুদান সহায়তা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো খাতে স্বল্প মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে যা দু’দেশের উন্নয়ন অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন, ভারত সরকার সিলেটের জন্য যে তিনটি প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছেন সেই তিনটি প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এবং প্রয়োজনীয়। এসব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের তিনটি প্রধান শহর সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ভারত অনুদান প্রদান করছে। সিলেটে বরাদ্দকৃত অনুদানের মাধ্যমে একটি পাঁচতলা কিন্ডার গার্টেন স্কুল, ক্লিনার কলোনীতে একটি ছয়তলা ভবন এবং ধোপাদিঘীরপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে। সিলেট শহরবাসী এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আজ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। আমরা অবশ্যই শান্তিতে-সংহতিতে এবং সুসময়ে-দুঃসময়ে ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকব।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো: আমিনুল হক তার বক্তব্যে জানান, উন্নয়নের সিঁড়িতে ভারত ও বাংলাদেশ একে অন্যকে সাহায্য সহযোগিতা করে অনেকটা হাত ধরাধরি করে কাজ করছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাথে ভারতীয় হাই কমিশনের এরকম একটি দ্বি পাক্ষিক অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করে শাহ মো: আমিনুল হক জানান, কিছুদিনের মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাবেন এবং এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বি পাক্ষিক সম্পর্ক এবং উন্নয়নের গতিধারা আরও বেগবান হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে অভূতপূর্ব সহযোগিতা করেছে তা বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জন্য দিনটি ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন সিলেট সিটির উন্নয়নকাজে ভারতীয় সরকারের এই অনুদান একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা।
ভবিষ্যতে এরকম আরও উন্নয়ন প্রকল্প যুক্ত হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে এনামুল হাবীব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে স্বপ্ন দেখছেন, অবকাঠামো খাতে এসব স্বল্প মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তিনটি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করে প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশেন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের এসিসট্যান্ট হাই কমিশনার সোমনাথ হালদার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. এ কে মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: ইলিয়াছুর রহমান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকের, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: মুসতাক আহমদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বকস, সংরক্ষিত ৬ আসনের কাউন্সিলর শাহানারা বেগমসহ আরও অনেকে। জনসংযোগ কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন মনজুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স কালেকটর জ্যোতিষ চক্রবর্ত্তী।