অনলাইনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা



অনলাইনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা

“একটা সময় ছিল যখন ছোটখাটো কাজের জন্যেও সরকারি অফিসে যেতে হতো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। অনলাইনে নানা সেবা চালু হওয়ায় এখন আমরা ঘরে বসেই সরকারি অনেক সেবা পাচ্ছি। ঘরে বসেই পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে পারছি। বিভিন্ন সেবার তথ্য জানতে পারছি। প্রয়োজনীয় ফরম ডাউনলোড করে তা জমা দিতে পারছি। আশা করি ভবিষ্যতে ঘরে বসেই সব কাজ করতে পারবো।”

কথাগুলো বলছিলেন সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়ার অধিবাসী ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান। শুধু সাইদুর রহমানই নন, সিলেট নগরের অনেক অধিবাসীই এখন অনলাইনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনেক সেবা গ্রহণ করছেন। ওয়েবসাইট ও নগর অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে সেবা পেয়ে তারা খুশি। ভবিষ্যতে অনলাইন সেবা আরো বাড়বে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে সেবা পৌঁছে দিতে চায়। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নগর অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এখন নগরবাসী ঘরে বসে নগর অ্যাপের মাধ্যমে অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

মেয়র জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশন সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইটে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। ওয়েবসাইটে নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সেবাও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

নগরবাসী এখন ঘরে বসেই পানির সংযোগ ও হালনাগাদ বিল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানতে পারছেন। নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে পানির বিলও পরিশোধ করতে পারছেন। এই সার্ভিস চালুর ফলে পানির বিল সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। কমেছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।

নাগরিক জীবনের নানা দুর্ভোগ এবং নাগরিক সেবা পেতে হয়রানির পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অভিযোগ নাগরিকদের কাছ থেকে জানতে নতুন একটি “নগর মোবাইল অ্যাপ” চালু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। কর্পোরেশনের সেবা নগরবাসীর দ্বারে পৌঁছে দেয়া এই অ্যাপ চালুর অন্যতম লক্ষ্য। এ অ্যাপের মাধ্যমে এলাকার রাস্তা, সড়কবাতি, পানি, নর্দমা, আবর্জনা, মশা, অবৈধ দখল ইত্যাদি যে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানানো যায়। অ্যাপ’র মাধ্যমে মোবাইলে তোলা সংশ্লিষ্ট ছবিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো যায়। একই ভাবে কোনো পরামর্শ থাকলে সেসবও দেয়া যায়।

‘নগর অ্যাপ’ নাগরিক জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে। নগর অ্যাপে নগরবাসীর কাছের হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, এটিএম বুথের ঠিকানাসহ নগরবাসীর প্রয়োজনীয় নানা তথ্য রয়েছে। রয়েছে মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য। নাগরিক সেবার ফরম ডাউনলোড সুবিধা ও পানির বিল পরিশোধের সুযোগও রয়েছে।

“আমরা অনলাইনে নগরবাসীর জন্য সব সেবা উন্মুক্ত করতে চাই। আশা করি অবিলম্বে কর্পোরেশনের সব সেবা অনলাইনেই পাওয়া যাবে,” বললেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি আরো বলেন, অনলাইনে সব সেবা উন্মুক্ত হলে সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের কার্যক্রমে নাগরিকদের আস্থা অনেক বাড়বে। দালালের আধিপত্য ও নির্ভরতা কমবে। জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। নগরবাসী নিজেদের অধিকারের ব্যাপারেও আরো সচেতন হবেন। কমবে হয়রানি।

সিটি কর্পোরেশনের আইটি পরামর্শক মো. শাহাদাৎ হোসেন খান সায়েম জানান, ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধেরও সুযোগ সৃষ্টি করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। নগরবাসী অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ এবং ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদনের আবেদন এবং অনুমোদন গ্রহণ করতে পারবেন অচিরেই।

তিনি বলেন, এই সেবা চালু হলে নগরবাসী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ কাজের অনুমতির জন্য। বিলবোর্ড ও নলকূপ স্থাপনের এবং ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনও করা যাবে অনলাইনে।

কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটে গ্রাহকগণ তাদের নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সের হালনাগাদ তথ্য দেখতে পারবেন, বিলও পরিশোধ করতে পারবেন। কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স শাখাসমূহ সহজেই ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করতে পারবে।

অনলাইনে সিটি কর্পোরেশনের নানা সেবা চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্পোরেশনের যানবাহনের গতিবিধি মনিটর করারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কর্পোরেশনের কর্মচারিদের গতিবিধিও নজরদারি করা যাবে। ফলে নগরবাসীর অধিকতর সেবাও নিশ্চিত হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব বলেন, সরকার ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নে আমরা ভ‚মিকা রাখতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা অনলাইনে বিভিন্ন সেবা উন্মুক্ত করেছি। আশা করি, ভবিষ্যতে নগরবাসী ঘরে বসেই কর্পোরেশনের সব সেবা পাবেন।